মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৩rd জুন ২০১৯

নোবেল জয়ের গোপন সূত্র অধিক পরিমাণে দুধ গ্রহণ


প্রকাশন তারিখ : 2019-06-12

যেসব দেশের মানুষের খাদ্যতালিকায় দুধের পরিমাণ বেশি সেই দেশগুলোর মানুষের মধ্যে মেধাবী জনশক্তি গড়ে উঠে। বুধবার (১২/০৬/১৯) রাজধানীর সেচভবনে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) আয়োজিত Safe Food For Building Healthy Nation শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: নুরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এবং বারটান-এর অবকাঠামো নির্মাণ ও কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্প পরিচালক এস.এম শিবলী নজির, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর মহাপরিচালক ড. নাথুরাম সরকার। সভাপতিত্ব করেন বারটান পরিচালক কাজী আবুল কালাম (যুগ্মসচিব)।


সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময়ে ড. মো: নুরুল ইসলাম খাদ্যতালিকায় অধিক পরিমাণে দুধ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। মেধার সঙ্গে দুধের সম্পর্কের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জনসংখ্যার অনুপাতে নোবেল বিজয়ীর সংখ্যায় সবার চেয়ে এগিয়ে সুইডেন, যেখানে প্রতি ১ কোটি মানুষের মধ্যে ৩৩ জন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী রয়েছে। সুইডেনের মানুষ মাথাপিছু গড়ে প্রতিদিন ৯৬০ মিলি লিটার দুধ গ্রহণ করেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সুইজারল্যান্ড প্রতি ১ কোটি মানুষের মধ্যে ৩২ জন নোবেল জয়ী রয়েছেন, সেখানে মানুষ মাথাপিছু গড়ে প্রতিদিন ৮৬০ মিলি লিটার দুধ গ্রহণ করেন। অর্থাৎ নোবেলজয়ের গোপন সূত্র হচ্ছে অধিক পরিমাণে দুধ গ্রহণ।

সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণায় দুধে ভারী ধাতু পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুধ তিনভাবে দূষিত হতে পারে-ভেজাল দ্রব্য মিশ্রণ, ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার, অপরিচ্ছন্ন খামার ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া। দুগ্ধপ্রদানকারী প্রাণী ভারী ধাতু সংবলিত দুধ প্রদান করছে না। বরং দুধ সংগ্রহোত্তর পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণ, বিপণন পর্যায়ে গিয়ে দুধ ভারী ধাতু দ্বারা দূষিত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। 


দুধের বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ড. মো: নুরুল ইসলাম বলেন, দুধের আমিষ ও ক্যালসিয়াম শোষণ ক্ষমতা প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি থাকার কারণে দেহগঠন, দাঁত-হাড় গঠনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন অনুপুষ্টির যোগান দিয়ে থাকে। তাছাড়া নিয়মিত দুধ গ্রহণের ফলে ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস, কিডনি ও হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়। দুগ্ধজাত বিভিন্ন খাবার  (যেমন দই, পনির) মানবদেহের জন্য প্রোবায়োটিক্স হিসেবে কাজ করে। তিনি যোগ করেন, ঘুমানোর আগে ০১ গ্লাস দুধ গরম দুধ গ্রহণ করলে অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। 


সেমিনারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পালন অনুষদের কয়েকজন অধ্যাপক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মিল্কভিটা, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  


Share with :

Facebook Facebook